বিরাজ বৌ · শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

Chapter 12: অধ্যায় 12

প্রত্যূষে আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন, টিপি টিপি জল পড়িতেছিল। নীলাম্বর খোলা দরজার চৌকাঠে মাথা রাখিয়া কোন এক সময়ে ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল। সহসা তাহার সুপ্ত কর্ণে শব্দ আসিল, হাঁ গা, বিরাজ-বৌমা!

নীলাম্বর ধড়মড় কয়িয়া উঠিয়া বসিল। হয় ত শ্যাম নাম শুনিয়া এমনই কোন এক বর্ষার মেঘাচ্ছন্ন প্রভাতে শ্রীরাধা এমনই ব্যাকুল হইয়া উঠিয়া বসিতেন। সে চোখ মুছিতে মুছিতে বাহিরে আসিয়া দেখিল, উঠানে তুলসী ডাকিতেছে। কাল সমস্ত রাত্রি বনে বনে প্রতি বৃক্ষতলে খুঁজিয়া খুঁজিয়া কাঁদিয়া ঘণ্টা-খানেক পূর্ব্বে শ্রান্ত ও ভীত হইয়া ফিরিয়া আসিয়া দোরগোড়ায় বসিয়াছিল, তারপর কখন ভুলিয়া ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল।

তুলসী জিজ্ঞাসা করিল, মা কোথায় বাবু?

নীলাম্বর হতবুদ্ধির মত চাহিয়া থাকিয়া বলিল, তুই তবে কাকে ডাক্‌ছিলি?

তুলসী বলিল, বৌমাকেই ত ডাক্‌ছি বাবু! কাল এক পহর রেতে কোথাও কিছু নেই, এই আঁধারে মা গিয়ে আমাদের বাড়ি মোটা চাল চেয়ে আন্‌লে, তাই সকালে দোর খোলা পেয়ে জান্‌তে এলুম, সে চেলে কি কাজ হ’ল?

নীলাম্বর মনে মনে সমস্ত বুঝিল, কিন্তু কোন কথা কহিল না।

তুলসী বলিল, এত ভোরে তবে খিড়কি খুল্‌লে কে? তবে বুঝি বৌমা ঘাটে গেছেন, বলিয়া চলিয়া গেল।

নদীর ধারে ধারে প্রতি গর্ত্ত, প্রতি বাঁক, প্রতি ঝোপ-ঝাড় অনুসন্ধান করিতে করিতে সমস্ত দিন অভুক্ত অস্নাত নীলাম্বর সহসা একস্থানে থামিয়া পড়িয়া বলিল, এ কি পাগলামি আমার মাথায় চাপিয়াছে! আমি যে সারাদিন খাই নাই, এখনও কি একথা তাহার মনে পড়িতে বাকি আছে? এর পরও সে কি কোথাও কোন কারণে এক মুহূর্ত্ত থাকিতে পারে? তবে এ কি অদ্ভুত কাণ্ড সকাল হইতে করিয়া ফিরিতেছি! এসব চোখের সামনে এমনই সুস্পষ্ট হইয়া দেখা দিল যে, তাহার সমস্ত দুশ্চিন্তা একেবারে ধুইয়া মুছিয়া গেল, সে কাদা ঠেলিয়া মাঠ ভাঙ্গিয়া উর্দ্ধশ্বাসে ঘরের দিকে ছুটিল। বেলা যখন যায় যায়, পশ্চিমাকাশে সূর্য্যদেব ক্ষণকালের জন্য মেঘের ফাঁকে রক্তমুখ বাহির করিয়াছেন, সে তখন বাড়ী ঢুকিয়া সোজা রান্নাঘরে আসিয়া দাঁড়াইল। মেঝের উপর তখনও আসন পাতা, তখনও গতরাত্রির বাড়া ভাত শুকাইয়া পড়িয়া আছে—আরশোলা ইঁদুরে ছুটাছুটি করিতেছে—কেহ মুক্ত করে নাই। আঁধারে আঁধারে ঠাহর করে নাই; এখন ভাতের চেহারা দেখিয়াই বুঝিল, ইহাই তুলসীর মোটা চাল, ইহাই অভুক্ত স্বামীর জন্য বিরাজ জ্বরে কাঁপিতে কাঁপিতে অন্ধকারে লুকাইয়া ভিক্ষা করিয়া আনিয়াছিল, ইহারই জন্য সে মার খাইয়াছে, অশ্রাব্য কটুকথা শুনিয়া লজ্জায় ধিক্কারে বর্ষার দুরন্ত রাতে গৃহত্যাগ করিয়াছে।

নীলাম্বর সেইখানে বসিয়া পড়িয়া দুই হাতে মুখ ঢাকিয়া মেয়েমানুষের মত আর্ত্তনাদ করিয়া কাঁদিয়া উঠিল। সে যখন এখনও ফিরিয়া আসে নাই, তখন আর আসিবার কথা ভাবিতে পারিল না। সে স্ত্রীকে চিনিত। সে যে কত অভিমানী, প্রাণ গেলেও সে যে পরের ঘরে আশ্রয় লইতে গিয়া এই কলঙ্ক প্রকাশ করিতে চাহিবে না, তাহা নিঃসংশয়ে বুঝিতেছিল বলিয়াই তাহার বুকের ভিতরে এত সত্বর এমন হাহাকার উঠিল। তারপর উপুড় হইয়া পড়িয়া দুই বাহু সম্মুখে প্রসারিত করিয়া দিয়া অবিশ্রাম আবৃত্তি করিতে লাগিল, এ আমি সইতে পারব না বিরাজ, তুই আয়।

সন্ধ্যা হইল, এ বাড়ীতে কেহ দীপ জ্বালিল না; রাত্রি হইল, রান্নাঘরে কেহ রাঁধিতে প্রবেশ করিল না, কাঁদিয়া কাঁদিয়া তাহার চোখমুখ ফুলিয়া গেল, কেহ মুছাইয়া দিল না। দুদিনের উপবাসীকে কেহ খাইতে ডাকিল না। বাহিরে চাপিয়া বৃষ্টি আসিল, ঘনান্ধকার বিদীর্ণ করিয়া বিদ্যুতের শিখা তাহার মুদ্রিত চক্ষুর ভিতর পর্য্যন্ত উদ্ভাসিত করিয়া দুর্যোগের বার্ত্তা জানাইয়া যাইতে লাগিল; তথাপি সে উঠিয়া বসিল না, চোখ মেলিল না, একভাবে মুখ গুজিয়া গোঁ গোঁ করিতে লাগিল।

যখন তাহার ঘুম ভাঙ্গিল, তখন সকাল। বাহিরের দিকে একটা অস্পষ্ট কোলাহল শুনিয়া ছুটিয়া আসিয়া দেখিল, দরজায় একটা গো-শকট দাঁড়াইয়া আছে, ব্যস্ত হইয়া সম্মুখে দাঁড়াইতেই ছোটবৌ ঘোম্‌টা টানিয়া দিয়া নামিয়া পড়িল। অগ্রজের প্রতি একটা বক্র কটাক্ষ করিয়া পীতাম্বর ওধারে সরিয়া গেল। ছোটবৌ কাছে আসিয়া ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিতেই নীলাম্বর অস্ফুটস্বরে কি-একটা আশীর্ব্বাদ উচ্চারণ করিতে গিয়া হু হু করিয়া কাঁদিয়া উঠিল। বিস্মিত ছোটবৌ হেঁট মাথা তুলিতে না তুলিতে সে দ্রুতপদে কোন্ দিকে অদৃশ্য হইয়া গেল।

ছোটবৌ জীবনে আজ প্রথম স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করিয়া বাঁকিয়া দাঁড়াইল। অশ্রুভারাক্রান্ত রক্তাক্ত চোখ দুটি তুলিয়া বলিল, তুমি কি পাথর দিয়ে তৈরী? দুঃখে কষ্টে দিদি আত্মঘাতী হ’লেন, তবুও আমরা পর হ’য়ে থাকব? তুমি থাক্‌তে পার থাক গে, আমি আজ থেকে ও-বাড়ির সব কাজ কর্‌ব।

পীতাম্বর চম্‌কাইয়া উঠিল—সে কি কথা?

মোহিনী তুলসীর কাছে যতটুকু শুনিয়াছিল এবং নিজে যাহা অনুমান করিয়াছিল, কাঁদিতে কাঁদিতে সমস্ত কহিল।

পীতাম্বর সহজে বিশ্বাস করিবার লোক নয়, কহিল, তাঁর দেহ ভেসে উঠবে ত?

ছোটবৌ চোখ মুছিয়া বলিল, না উঠ্‌তেও পারে। স্রোতে ভেসে গেছেন, সতী-লক্ষ্মীর দেহ মা-গঙ্গা হয় ত বুকে তুলে নিয়েচেন। তা ছাড়া কে বা সন্ধান কর্‌চে, কে বা খুঁজে বেড়িয়েছে বল?

পীতাম্বর প্রথমটা বিশ্বাস করিল না, শেষটা করিল; বলিল, আচ্ছা আমি খোঁজ করাচ্চি। একটু ভাবিয়া বলিল, বৌঠান মামার বাড়ি চলে যায় নি ত?

মোহিনী মাথা নাড়িয়া বলিল, কখ্‌খন না। দিদি বড় অভিমানী, তিনি কোথাও যান নি, নদীতেই প্রাণ দিয়েছেন।

আচ্ছা, তাও দেখছি, বলিয়া পীতাম্বর শুষ্কমুখে বাহিরে চলিয়া গেল। বৌঠানের জন্য আজ হঠাৎ তাহার প্রাণটা খারাপ হইয়া গেল। লোকজন নিযুক্ত করিয়া, একজন প্রজাকে বিরাজের মামার বাড়ি পাঠাইয়া জীবনে আজ সে প্রথম পুণ্যের কাজ করিল। স্ত্রীকে ডাকিয়া বলিল, যদুকে দিয়ে উঠানের বেড়াটা ভাঙিয়ে দাও, আর যা পার কর। দাদার মুখের পানে চাইতে পারা যায় না, বলিয়া গুড় মুখে দিয়া একটু জল খাইয়া দপ্তর বগলে করিয়া কাজে চলিয়া গেল। চার-পাঁচ দিন কামাই হওয়ায় তাহার অনেক ক্ষতি হইয়াছিল।

কাজ করিতে করিতে ছোটবৌ ক্রমাগত চোখ মুছিয়া ভাবিতেছিল, ইনি যে মুখের পানে চাইতে পারেন নাই, সে মুখ না জানি কি হইয়া গিয়াছে!

নীলাম্বর চণ্ডীমণ্ডপের মাঝখানে চোখ বুজিয়া স্তব্ধ হইয়া বসিয়াছিল। সুমুখের দেওয়ালে টাঙান রাধাকৃষ্ণের যুগলমূর্ত্তির পট। এই পটখানি নাকি জাগ্রত। যখন রেলগাড়ী হয় নাই, তখন তাহাদের পিতামহ পায়ে হাঁটিয়া এখানি বৃন্দাবন হইতে আনিয়াছিলেন। তাঁহার সহিত পটখানি মানুষের গলায় কথা কহিত, এ ইতিহাস নীলাম্বর তাহার জননীর কাছে বহুবার শুনিয়াছিল। ঠাকুর-দেবতা তাহার কাছে ঝাপ্সা ব্যাপার ছিল না। তেমন করিয়া ডাকার মত ডাকিতে পারিলে এঁরা যে সুমুখে আসেন, কথা কন, এ সমস্ত তাঁহার কাছে প্রত্যক্ষ সত্য ছিল। তাই ইতিপূর্ব্বে গোপনে এই পটখানিকে কথা কহাইবার প্রয়াস সে যে কত করিয়াছে, তাহার অবধি নাই, কিন্তু সফল হয় নাই। অথচ এই নিষ্ফলতার হেতু সে নিজের অক্ষমতার উপরেই দিয়া আসিয়াছে; এমন সংশয় কোনদিন মনে উঠে নাই, পট সত্যই কথা কহে কি না। লেখাপড়া সে শিখে নাই। বর্ণপরিচয় হইয়াছিল, তারপর বিরাজের কাছে রামায়ণ মহাভারত পড়িতে এবং একটু-আধটু চিঠিপত্র লিখিতে শিখিয়াছিল—শাস্ত্র বা ধর্ম্মগ্রন্থের কোন ধার ধারিত না, তাই ঈশ্বর সম্বন্ধীয় ধারণা তাহার নিতান্তই মোটা ধরণের ছিল। অথচ এ সম্বন্ধে কোন যুক্তিতর্কও সহিত পারিত না। ছেলে-বেলায় এই সব লইয়া কখনও বা পীতাম্বরের সহিত কখনও বা বিরাজের সহিত তাহার মারপিট হইয়া যাইত।

বিরাজ তাহার অপেক্ষা মাত্র চার বছরের ছোট ছিল—তেমন মানিত না। একবার সে মার খাইয়া নীলাম্বরের পেট কামড়াইয়া রক্ত বাহির করিয়া দিয়াছিল। শাশুড়ী উভয়কে ভর্ৎসনা করিয়া বলিয়াছিলেন, ছিঃ মা, গুরুজনকে অমন করে কামড়ে দিতে নেই।

বিরাজ কাঁদিতে কাঁদিতে বলিয়াছিল, ও আমাকে আগে মেরেছিল। তিনি পুত্রকে ডাকিয়া শপথ দিয়াছিলেন, বিরাজের গায়ে কখন যেন সে হাত না তোলে। তখন তাহার বয়স চৌদ্দ বৎসর, আজ প্রায় ত্রিশ চলিয়াছে—সে অবধি মাতৃভক্ত নীলাম্বর সেদিন পর্য্যন্ত মাতৃ-আজ্ঞা লঙ্ঘন করে নাই।

আজ স্তব্ধ হইয়া বসিয়া পুরাতন দিনের এই সব বিস্মৃত কাহিনী স্মরণ করিয়া প্রথমে সে মায়ের কাছে ভিক্ষা চাহিয়া তাহার জাগ্রত ঠাকুরকে দুটা সোজা কথায় বিড় বিড় করিয়া বুঝাইয়া বলিতেছিল, অন্তর্যামী ঠাকুর! তুমি ত সমস্তই দেখতে পেয়েছ! সে যখন এতটুকু অপরাধ করে নি, তখন সমস্ত পাপ আমার মাথায় দিয়ে তাকে স্বর্গে যেতে দাও। এখানে সে অনেক দুঃখ পেয়ে গেছে, আর তাকে দুঃখ দিও না। তাহার নিমীলিত চোখের কোণ বাহিয়া জল ঝরিয়া পড়িতেছিল। হঠাৎ তাহার ধ্যান ভাঙ্গিয়া গেল।

বাবা!

নীলাম্বর বিস্মিত হইয়া চাহিয়া দেখিল, ছোটবৌ অদূরে বসিয়া আছে। তাহার মুখে সামান্য একটু ঘোম্‌টা, সে সহজকণ্ঠে বলিল, আমি আপনার মেয়ে, বাবা ভেতরে আসুন, স্নান ক'রে আজ আপনাকে দুটি খেতে হবে।

প্রথমে নীলাম্বর নির্ব্বাক্ হইয়া চাহিয়া রহিল—কত যুগ যেন গত হইয়াছে, তাহাকে কেহ খাইতে ডাকে নাই। ছোটবৌ পুনরায় বলিল, বাবা, রান্না হয়ে গেছে।

এইবার সে বুঝিল। একবার তাহার সর্ব্বশরীর কাঁপিয়া উঠিল, তারপর সেইখানে উপুড় হইয়া পড়িয়া কাঁদিয়া উঠিল—রান্না হয়ে গেল মা!

গ্রামের সবাই শুনিল, সবাই বিশ্বাস করিল, বিরাজ-বৌ জলে ডুবিয়া মরিয়াছে; বিশ্বাস করিল না শুধু ধূর্ত্ত পীতাম্বর। সে মনে মনে তর্ক করিতে লাগিল, এই নদীতে এত বাঁক, এত ঝোপ-ঝাড়, মৃতদেহ কোথাও না কোথাও আট্‌কাইবে। নদীতে নৌকা লইয়া ধারে ধারে বেড়াইয়া তটভূমির সমস্ত বন-জঙ্গল লোক দিয়া তন্ন তন্ন অনুসন্ধান করিয়াও যখন শবের কোন চিহ্নই পাওয়া গেল না, তখন তাহার নিশ্চয় বিশ্বাস হইল, বৌঠান আর যাই করুক, নদীতে ডুবিয়া মরে নাই। কিছুকাল পূর্ব্বে একটা সন্দেহ তাহার মনে উঠিয়াছিল, আবার সেই সন্দেহটাই মনের মধ্যে পাক খাইতে লাগিল। অথচ কাহারো কাছে বলিবার যো নাই। একবার মোহিনীকে বলিতে গিয়াছিল, সে জিভ কাটিয়া কানে আঙুল দিয়া পিছাইয়া দাঁড়াইয়া বলিল, তা হ’লে ঠাকুর-দেবতাও মিছে, দিনও মিছে, রাতও মিছে। দেওয়ালে টাঙান অন্নপূর্ণার ছবির দিকে চাহিয়া বলিল, দিদি ওঁর অংশ ছিলেন। এ কথা আর কেউ জানুক আর না জানুক, আমি জানি, বলিয়া চলিয়া গেল।

পীতাম্বর রাগ করিল না—হঠাৎ সে যেন আলাদা মানুষ হইয়া গিয়াছিল।

মোহিনী ভাসুরের সহিত কথা কহিতে সুরু করিয়াছে। ভাত বাড়িয়া দিয়া একটুখানি আড়ালে বসিয়া একটু একটু করিয়া সমস্ত ঘটনা শুনিয়া লইল। সমস্ত সংসারের মাঝে শুধু সেই জানিল কি ঘটিয়াছিল, শুধু সেই বুঝিল কি মর্ম্মান্তিক ব্যথা ওঁর বুকে বিঁধিয়া রহিল।

নীলাম্বর বলিল, মা, যত দোষই ক’রে থাকি না কেন, জ্ঞানে ত করি নি, তবে কি ক’রে মায়া কাটিয়ে চ’লে গেল? আর সইতে পার্‌ছিল না, তাই কি গেল না?

মোহিনী অনেক কথা জানিত। একবার ইচ্ছা হইল বলে, দিদি যাবে বলিয়া একদিন স্বামীর ভার তাহার উপরে দিয়াছিল; কিন্তু চুপ করিয়া রহিল।

পীতাম্বর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিল, তুমি কি দাদার সঙ্গে কথা কও?

মোহিনী জবাব দিল, বাবা বলি, তাই কথা কই।

পীতাম্বর হাসিয়া কহিল, কিন্তু লোকে শুন্‌লে নিন্দে কর্‌বে যে!

মোহিনী রুষ্টভাবে বলিল, লোকে আর কি পারে যে কর্‌বে? তাদের কাজ তারা করুক, আমার কাজ আমি করি। এ-যাত্রা ওঁকে যদি বাঁচিয়ে তুল্‌তে পারি ত লোকের নিন্দে আমি মাথায় পেতে নেব। বলিয়া কাজে চলিয়া গেল।